বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, বরিশাল : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছাত্রলীগের কারাবন্দী নেতা রইজ আহম্মেদ মান্না। তিনি সদ্য বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ’র (খোকন সেরনিয়াবাত) তিন সমর্থকের ওপর হামলায় ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। মান্না হামলার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। গত ৫ দিন ধরে তিনি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রয়েছেন। ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরা চেক করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। গত ৫ দিন ধরে তিনি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রয়েছেন। ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরা চেক করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
যদিও মান্না এই হামলার সঙ্গে জড়িত নয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এবং তাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। মান্না হামলার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। গত ৫ দিন ধরে তিনি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত রয়েছেন। ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরা চেক করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
বিশেষ গোষ্ঠীর ইন্ধনে মান্নাকে গ্রেপ্তার
অপরদিকে সোমবার (১৫ মে) দুপুর ১২টায় বরিশাল নগরীর সোহেল চত্বরস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রইজ আহম্মেদ মান্নার মুক্তি দাবি করা হয়। বলা হচ্ছে- একটা বিশেষ গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে এখানে। আমাদের প্রাণের নেতা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র ছোট ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের নমিনেশনকে কেন্দ্র করে এ নির্বাচনকে অভ্যন্তরীণ একটি মহল বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে।
নগর আ’লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন-পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রইজ আহম্মেদ মান্নাকে গ্রেপ্তার করার যে কারণ দেখিয়েছে, যেখানে ঘটনাস্থলের দুই কিলোমিটারের মধ্যেই রইজ আহম্মেদ মান্না ছিল না। এমনকি এ ঘটনা সম্পর্কিত কোনো ভিডিও ফুটেজও কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি। আমরা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি এবং আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, উল্লেখিত ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করার।
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র কেনা ও জমাদানের শেষ দিনে কারাগারে থাকা অবস্থাতেই রইস আহমেদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি নগরীর ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর পক্ষে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আজ মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই ওয়ার্ডে আরও সাতজন প্রার্থী আছেন।
এরআগে রোববার (১৪ মে) সন্ধ্যারাতে নগরীর ২ নং ওয়ার্ডের কাউনিয়া এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা মান্নার বিরুদ্ধে বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ’র (খোকন সেরনিয়াবাত) কর্মীকে পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নগরজুড়ে চাউর হয়ে গেলে রোববার মধ্যরাতে মান্নাসহ কয়েক কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ওই মামলায় সোমবার (১৫ মে) আদালত ছাত্রলীগ নেতা মান্না এবং তাঁর অনুসারীদের কারাগারে প্রেরণ করেছেন। কারাগারে পাঠানো মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- রইজ আহম্মেদ মান্না, তার ছোট ভাই রিসাদ আহমেদ নাদিম, মেহেদী হাসান সম্পদ, পারভেজ হাওলাদার, শান্ত ইসলাম, মামুন ওরফে কসাই মামুন, মিজানুর রহমান শাওন, রাশেদ হাওলাদার, আল আমিন হাওলাদার, নান্টু সন্যামত, ইমরান হোসেন সজিব, মো. আজিজুল হাকিম ফাহিম, মো. সুমন ওরফে টিয়া সুমন।
গত রোববার সন্ধ্যায় নগরীর কাউনিয়া বাঁশবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহর তিন সমর্থক মনা আহম্মেদ, আবদুল হালিম ও মো. জাহিদকে পিটিয়ে আহত করা হয়। তাঁদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মান্নার নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে অভিযোগে কাউনিয়া থানায় মামলা হয়। সেই মামলায় রোববার মধ্যরাতে মান্না সহ তাঁর ১২ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন রাতে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply